সুস্থ জীবনের জন্য ক্যালরি ব্যালেন্স কেন এত জরুরি:
সুস্থ থাকতে ক্যালরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালরি কম বা বেশি হলে শরীরে সমস্যা দেখা দেয়। তাই ক্যালরি ব্যালেন্স বজায় রাখা প্রয়োজন।
আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা থেকেই ক্যালরি পাই। এই ক্যালরি শরীরকে শক্তি জোগায়। চলাফেরা, কাজকর্ম ও চিন্তা করার শক্তি আসে এখান থেকেই। শরীরের ভেতরের মেটাবলিক কাজ চলতেও ক্যালরি দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি ক্ষতিকর। আবার খুব কম ক্যালরিও শরীরের জন্য ভালো নয়। এতে ওজন বৃদ্ধি, অপুষ্টি ও হরমোন সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে পারে ক্রনিক রোগের ঝুঁকি।
ক্যালরি ব্যয়ের প্রধান উৎস:
শরীর প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে। বিশ্রাম অবস্থায় যে ক্যালরি খরচ হয়, তাকে বলা হয় বিএমআর। শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দনের জন্য এই ক্যালরি প্রয়োজন। বিএমআর কমে গেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়।

দৈনন্দিন চলাফেরাতেও ক্যালরি খরচ হয়। এটিকে বলা হয় নন এক্সারসাইজ অ্যাকটিভিটি থার্মোজেনেসিস। হাঁটা, কাজ করা ও বাজার করাও এতে পড়ে। জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী এই ব্যয় ভিন্ন হয়।
ব্যায়াম ক্যালরি বার্নের আরেকটি উপায়। ওয়াকিং, জগিং ও ইয়োগা বেশ কার্যকর। নিয়মিত ব্যায়াম ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
অনিয়ন্ত্রিত ক্যালরি গ্রহণের ক্ষতি:
অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এখন সাধারণ সমস্যা। ফাস্ট ফুড, চিনি ও ভাজা খাবার এর বড় কারণ। এর ফলে বাড়ছে স্থূলতার হার।
তরুণদের জন্য বিষয়টি বেশি উদ্বেগজনক। ওজন হঠাৎ বাড়ে না। ধীরে ধীরে বাড়তি ক্যালরি জমে যায়। তাই ওজন কমাতে দরকার স্মার্ট ক্যালরি ডেফিসিট। প্রতিদিন ৩০০–৫০০ ক্যালরি কম গ্রহণ নিরাপদ।
ক্যালরি ব্যালেন্সের সহজ কৌশল:
রিফাইন সুগার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রসেসড ফুড কম খাওয়া ভালো। খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো দরকার। লীন প্রোটিন বেছে নেওয়া উপকারী। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অল্প পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
হরমোন ও ক্যালরির সম্পর্ক:
হরমোন ক্যালরি বার্নে বড় ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন গ্লুকোজ ব্যবহারে সাহায্য করে। স্ট্রেস বাড়লে কর্টিসল ফ্যাট জমায়। লেপটিন ও গ্রেলিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ক্যালরি ব্যালেন্স ভেঙে যায়।
ফ্যাটি লিভার ও ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ:
অতিরিক্ত ফ্যাট জমলে ফ্যাটি লিভার হয়। ওজন কমলে লিভারের অবস্থা উন্নত হয়। এ জন্য ক্যালরি কমানো জরুরি। ভাজা ও ট্রান্সফ্যাট এড়িয়ে চলতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যালরি ব্যালেন্স:
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যালরি হিসাব জরুরি। বেশি ক্যালরি রক্তে সুগার বাড়ায়। আবার কম ক্যালরি বিপজ্জনক হতে পারে। লো গ্লাইসেমিক খাবার খাওয়া উপকারী। ছোট ছোট মিল সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।
উপসংহার:
ক্যালরি ব্যালেন্স মানে না খেয়ে থাকা নয়। এর মানে সঠিক পরিমাণে খাবার খাওয়া। বয়স, কাজ ও শরীর বুঝে ক্যালরি ঠিক করতে হয়।সঠিক ক্যালরি ব্যালেন্সই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
