শীতকাতুরে হওয়ার কারণ এবং শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ
গরমকালে হালকা ফ্যান বা এসি ব্যবহার শরীরকে দ্রুত ঠাণ্ডা অনুভূত করায় স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু শীতকালে হঠাৎ ঠাণ্ডা হাড়ে হাড়ে অনুভূত হলে অবস্থা ভিন্ন। একই তাপমাত্রায় পাশের কেউ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করলেও কেউ অতিরিক্ত শীত অনুভব করতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকাতুরে হওয়ার কারণ কখনো কখনো শরীরের শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। শরীর কিভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে, তা থেকে বোঝা যায় কারা বেশি শীত অনুভব করছেন।

শীতকাতুরে হওয়ার প্রধান তিনটি কারণ:
১. আয়রনের ঘাটতি
রক্ত তৈরির কম ক্ষমতা বা আয়রনের অভাব লোহিত কণিকা তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। এই অবস্থায় শরীর নিজে থেকে যথেষ্ট তাপ উৎপন্ন করতে পারে না। ফলে হাত-পা ঠাণ্ডা থাকে এবং সারা সময় শীতকাতুরে অনুভূতি হয়।
২. থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি (হাইপোথাইরয়েডিজম)
গলার কাছে প্রজাপতির মতো থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাক হার এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হরমোনের ঘাটতি হলে শরীরের নিজস্ব হিট ইঞ্জিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এর ফলে যাদের হাইপোথাইরয়েডিজম আছে, তারা বেশি শীত অনুভব করেন।
৩. দেহে চর্বি কম থাকা
প্রাকৃতিক চর্বি শরীরের তাপ ধরে রাখতে এবং শরীরের প্রতিটি অংশে উষ্ণতা ছড়াতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে চর্বি খুব কম বা বডি মাস ইনডেক্স স্বাভাবিকের তুলনায় কম, তারা এই প্রাকৃতিক ইনসুলেশন থেকে বঞ্চিত থাকেন। তাই তাদের শীত অনুভব বেশি হয়।
শীতকাতুরে অনুভূতি কমানোর টিপস:
-
পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন, যাতে আয়রন এবং থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা ঠিক থাকে।
-
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করে শরীরের তাপ বজায় রাখুন।
-
শীতকালে পর্যাপ্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার বা প্রাকৃতিক ইনসুলেশন বাড়ান।
