এআই-নির্ভর ভুয়া ভিডিও দিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা: কানাডায় বাড়ছে উদ্বেগ
ভূমিকা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আজকের বিশ্বে প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এটি মানুষের চিন্তা ও শেখার ক্ষমতাকে অনুকরণ করে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। ডাক্তাররা রোগ নির্ণয়ে এআই ব্যবহার করছেন, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় সহায়তা পাচ্ছেন, আবার ব্যবসায়ীরা বাজার বিশ্লেষণে এআইকে কাজে লাগাচ্ছেন। তবে এর পাশাপাশি ভুয়া তথ্য, ডিপফেক ভিডিও এবং প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এআইকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা জরুরি। সঠিক প্রয়োগে এআই মানবজীবনকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও ও ছবি দিয়ে কানাডিয়ানদের ক্রিপ্টোকারেন্সি স্ক্যামে প্রলুব্ধ করার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান W5–এর তদন্তে উঠে এসেছে, এই ধরনের আধুনিক প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকেই তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় হারাচ্ছেন।
হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা:
অন্টারিওর মারখাম শহরের এক ৫১ বছর বয়সী নারী জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ১৭ লাখ ডলার হারিয়েছেন। এই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমি বুঝতেই পারিনি যে যেটা দেখছিলাম, সেটি আসলে ভয়ংকর প্রতারণা।”
প্রতারণার কৌশল:
২০২৩ সালের জুলাই মাসে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখেন, যেখানে ইলোন মাস্ককে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে দেখা যায়। ভিডিওতে মাস্কের মুখভঙ্গি ও কণ্ঠস্বর এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে তিনি সন্দেহ করেননি। পরে জানা যায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ ডিপফেক ভিডিও, যা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল।
ভিডিওতে বলা হয়, মাত্র ২৫০ ডলার বিনিয়োগ করলেই প্রতিদিন আয় করা সম্ভব। প্রথমে তিনি টাকা পাঠান এবং দুই দিন পর ৩০ ডলার লাভ পান। এই সামান্য মুনাফাই তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করায়। এরপর প্রতারকরা তাকে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। ধীরে ধীরে তিনি প্রায় সব সঞ্চয় হারান।
ডিপফেকের ঝুঁকি:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য। সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকল আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। W5–এর তদন্ত সতর্ক করেছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যেকোনো বিনিয়োগ–সংক্রান্ত ভিডিও যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
উপসংহার:
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, আধুনিক প্রযুক্তি যেমন সুবিধা দিচ্ছে, তেমনি অপরাধীরাও সেটিকে ব্যবহার করছে নতুন ধরনের প্রতারণার অস্ত্র হিসেবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন—যেকোনো সন্দেহজনক প্রস্তাব যাচাই ছাড়া অর্থ বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
