শিল্পা শেঠি বিতর্ক: ভুয়া ছবি ছড়ানো নিয়ে বোম্বে হাইকোর্টে অভিনেত্রীর দ্বারস্থ
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল ও ফিটনেস আইকন শিল্পা শেঠি আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। ব্যক্তিগত ও আইনি জটিলতার মধ্যেই এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিকৃত ও ভুয়া ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বোম্বে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন অভিনেত্রী।
শিল্পা শেঠি—সংক্ষিপ্ত পরিচয়
১৯৭৫ সালের ৮ জুন কর্ণাটকের মাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করা শিল্পা শেঠি ১৯৯৩ সালে বাজিগর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।
ধড়কন, রিশতে ও জানওয়ার-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দ্রুত দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক এবং রিয়েলিটি শো বিচারক হিসেবেও পরিচিত। ২০০৯ সালে ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শিল্পা। বর্তমানে তিনি দুই সন্তানের মা এবং ভারতের প্রভাবশালী নারী ব্যক্তিত্বদের একজন।
আইনি জটিলতার মধ্যেই নতুন বিপদ
চলতি বছরটি শিল্পা শেঠির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। ৬০ কোটি রুপির প্রতারণা মামলায় স্বামী রাজ কুন্দ্রাসহ আইনি জটিলতায় জড়ানোর পর থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছেন এই দম্পতি। সেই মামলার জেরে আপাতত তাদের দেশ ছাড়ার অনুমতিও নেই।
এর মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন শিল্পা।
সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া ও বিকৃত ছবি ছড়ানোর অভিযোগ
শিল্পার অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে তার চেহারা ও কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ভুয়া ভিডিও ও বিকৃত ছবি তৈরি করা হচ্ছে। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে।
এমনকি তার নাম ব্যবহার করে ভুয়া বই ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রকাশের অভিযোগও তোলেন অভিনেত্রী।
নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন
এই ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ায় নিজেকে আর নিরাপদ মনে করছিলেন না শিল্পা শেঠি। ব্যক্তিগত সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষার দাবিতে তাই তিনি বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
অভিনেত্রীর আশঙ্কা, এ ধরনের বিকৃত ছবি ও ভিডিও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার সম্পর্কে ভুল ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
বোম্বে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ
অভিযোগ শোনার পর বোম্বে হাইকোর্ট বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। আদালত মন্তব্য করে, এই ধরনের কনটেন্ট “অত্যন্ত বিরক্তিকর ও মর্মান্তিক”।
অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে—
-
শিল্পা শেঠির সব বিকৃত ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাতে হবে
-
সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে
বিচারপতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কারো ছবি বা ব্যক্তিগত জীবন ব্যবহার করে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
উপসংহার
শিল্পা শেঠি বিতর্ক আবারও দেখিয়ে দিল, ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আদালতের এই নির্দেশ ভবিষ্যতে সেলিব্রিটি ও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
