Bangla Tuktak

মাইগ্রেন কমতে পারে খাবারে পরিবর্তনে

মাইগ্রেন কমত পারে

মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে কোন খাবার উপকারী? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

মাইগ্রেন একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা, যা কখনও কয়েক ঘণ্টা আবার কখনও কয়েক দিন পর্যন্ত ভোগাতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যথা চললে শরীরের পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তিও বাড়ে। সবচেয়ে কঠিন দিক হলো, মাইগ্রেনের কোনও স্থায়ী চিকিৎসা এখনো নেই।

তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে মাইগ্রেনের তীব্রতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কেন মাইগ্রেন বাড়ে?

আবহাওয়ার পরিবর্তন, অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কিংবা পানিশূন্যতা—এই সব কারণেই অনেকের মাইগ্রেন বেড়ে যায়। মাথার এক পাশ থেকে শুরু হওয়া তীব্র ব্যথা, বমি ভাব, আলো বা শব্দে অস্বস্তি মাইগ্রেনের পরিচিত উপসর্গ।

এই অবস্থায় ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

যেসব খাবার মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে সহায়ক

পর্যাপ্ত পানি পান

পানিশূন্যতা মাইগ্রেনের একটি সাধারণ ট্রিগার। তাই সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কতটা পানি প্রয়োজন তা বয়স, ওজন ও কাজের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। শরীর যেন ডিহাইড্রেট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাই মূল কথা।

কলা

দীর্ঘ সময় না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। কলা দ্রুত শক্তি জোগায় এবং এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম মাইগ্রেনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। হালকা মাথাব্যথা শুরু হলে একটি কলা উপকারী হতে পারে।

বাদাম

কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা আখরোটে ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা স্নায়ুর কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। নিয়মিত অল্প পরিমাণ বাদাম খাওয়ার অভ্যাস মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তেলযুক্ত মাছ

ইলিশ, রুই, কাতলা কিংবা পমফ্রেটের মতো মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই উপাদান প্রদাহ কমাতে সহায়ক, যা মাইগ্রেনের তীব্রতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শাকসবজি ও তাজা ফল

শাক ও ফল ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। বিশেষ করে পালংশাকে ভিটামিন বি৬, বি১২, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উপাদান মাইগ্রেনের উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আদা চা

মাইগ্রেনের সময় অনেকের বমি বমি ভাব হয়। আদা চা এই অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। আদার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ মাথাব্যথার তীব্রতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আরও কোন খাবার উপকারে আসতে পারে?

ডার্ক চকলেট, ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, গ্রিন টি, পুদিনা চা বা ক্যামোমাইল চা অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। তবে এগুলো সবার জন্য একইভাবে কাজ নাও করতে পারে।

খাদ্যাভ্যাস বদলানোর আগে যা জানা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে বা নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে নতুন কোনও খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মাইগ্রেন পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব না হলেও, সচেতন জীবনযাপন ও সঠিক খাবারের মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *