মিস ইউনিভার্স ২০২৫: ভোটে শীর্ষে বাংলাদেশের তানজিয়া জামান মিথিলা, বিজয়ী হলে কী কী সুযোগ মেলে?
৭৪তম মিস ইউনিভার্স আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিয়া জামান মিথিলা পিপলস চয়েজ ক্যাটাগরিতে এগিয়ে থেকে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তিন লাখের বেশি ভোট পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস।
এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলে আসলে একজন বিজয়ী কী কী সুযোগ পান?
একদিনে তিন লাখ ভোট, ঐতিহাসিক মুহূর্ত বাংলাদেশের জন্য
মিথিলার একটি ছবি শেয়ার করে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের পরিচালক মুস্তফা ইসলাম ডিউক জানান, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ব্যতিক্রমী অর্জন। তার ভাষায়, একদিনে তিন লাখ ভোট পাওয়া অভূতপূর্ব।
তিনি আরও বলেন, তাদের দৈনিক লক্ষ্য পাঁচ লাখ ভোট সংগ্রহ করা এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। একতাই আমাদের শক্তি এই বার্তাটিই তিনি সামনে আনেন।
মিস ইউনিভার্স শুধুই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়
এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ কেবল খ্যাতি এনে দেয় না। বিজয়ের মাধ্যমে এমন কিছু সুযোগ তৈরি হয়, যা এক বছরের মধ্যেই একজন প্রতিযোগীর জীবনধারাকে আমূল বদলে দিতে পারে।
মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশনের মূল কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে। প্রতিবছর প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট পরিচালনা করা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেখা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাগুলোর একটি হওয়ায় বিজয়ীর প্রতিটি কার্যক্রম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়।
মুকুট জিতলে বিজয়ী কী পান?
H3: বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেতন
মুকুট জয়ের পর বিজয়ী সরাসরি পান ২৫০,০০০ মার্কিন ডলারের একটি চেক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি। এটি তার এক বছরের আনুষ্ঠানিক বেতন হিসেবে ধরা হয়।
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল আবাসন
বিজয়ীকে নিউইয়র্ক শহরে একটি প্রিমিয়াম অ্যাপার্টমেন্টে এক বছর থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব খরচ বহন করে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ।
ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের সুবিধা
এক বছরের জন্য বিজয়ী ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের অনুমতি পান। বিশ্বের যে কোনো দেশে সফরের আগে কেবল সংগঠনকে জানালেই হয়। ভ্রমণসংক্রান্ত সব খরচ সংগঠনই বহন করে।
পোশাক, প্রসাধনী ও লাইফস্টাইল সবই স্পনসর্ড
ফ্যাশন, স্কিন কেয়ার, স্বাস্থ্যসেবা এবং সৌন্দর্যচর্চার জন্য বিজয়ীর ব্যক্তিগত কোনো খরচ থাকে না। বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ডগুলো তাকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত করে।
দাতব্য ও সামাজিক কাজে আন্তর্জাতিক ভূমিকা
মিস ইউনিভার্স হিসেবে বিজয়ীকে শিশু অধিকার, নারী অধিকার, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে আন্তর্জাতিক দাতব্য কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। এতে তার সামাজিক প্রভাব বহুগুণে বাড়ে।
বিশ্বমানের ইভেন্টে উপস্থিতির সুযোগ
কনসার্ট, ফ্যাশন শো, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বা চলচ্চিত্র প্রিমিয়ারে অংশ নিতে চাইলে সব আয়োজন করে দেয় মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন। নিরাপত্তা থেকে রেড কার্পেট পর্যন্ত সব ব্যবস্থাই থাকে তাদের তত্ত্বাবধানে।
বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা
এক বছরে একজন তরুণীর পরিচিতি, ব্র্যান্ড ভ্যালু ও আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ যেভাবে বদলে যায়, মিস ইউনিভার্স সেই পথটিকে আরও বিস্তৃত করে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে ভোটে মিথিলার এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সৌন্দর্য শিল্পে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এবার হয়তো বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস গড়ার পথে এগোচ্ছে।
