শীতে ত্বক নরম রাখতে রাতে নারকেল তেল দিয়ে মুখ ম্যাসাজ করবেন যেভাবে
শীতকালে ঠান্ডা বাতাস ও কম আর্দ্রতা ত্বকের স্বাভাবিক নরম ভাব কেড়ে নেয়। অনেকের ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ, নিষ্প্রাণ ও টানটান। তবে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দিলেই এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিউটি এক্সপার্টদের মতে, সঠিক নিয়মে নারকেল তেল ব্যবহার করলে শীতেও ত্বক থাকে কোমল ও উজ্জ্বল।
ঘুমের আগে পাঁচ মিনিটে ত্বকের যত্নের সহজ রুটিন
রাতে ত্বক নিজে থেকে রিপেয়ার করার সময় পায়। তাই এই সময়ের যত্ন সবচেয়ে কার্যকর।
ধাপ ১: মুখ পরিষ্কার করা
প্রথমে একটি মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। মেকআপ, ধুলো ও ত্বকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
ধাপ ২: টোনার ব্যবহার
মুখ ধোয়ার পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী টোনার লাগান। এতে পোরস পরিষ্কার থাকে এবং পরের ধাপের উপাদান ভালোভাবে কাজ করে।
ধাপ ৩: ময়েশ্চারাইজারের বদলে নারকেল তেল
ক্লিনজিং ও টোনিংয়ের পর সাধারণত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়। তবে শীতে চাইলে এর বদলে অল্প পরিমাণ খাঁটি নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।
ধাপ ৪: নারকেল তেল দিয়ে ম্যাসাজ
এক থেকে দুই মিনিট আলতো করে মুখে ম্যাসাজ করুন। শুষ্ক ত্বক হলে সারা রাত তেল রেখে দেওয়া যেতে পারে।
ধাপ ৫: তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সতর্কতা
যাদের ত্বক বেশি তেলতেলে, তারা ম্যাসাজের পর হালকা ভেজা টিস্যু দিয়ে অতিরিক্ত তেল মুছে নিতে পারেন।
ত্বকের জন্য নারকেল তেল এত উপকারী কেন?
অনেকে নারকেল তেল শুধু চুলের যত্নেই ব্যবহার করেন। কিন্তু ত্বকের জন্যও এটি সমান কার্যকর।
নারকেল তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। এর ফলে বলিরেখা কমে এবং ত্বক দীর্ঘদিন টানটান থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা নিস্তেজ ত্বকে প্রাণ ফেরাতে সাহায্য করে।
রাতে নারকেল তেল দিয়ে মুখ ম্যাসাজ করলে কী উপকার পাওয়া যায়?
ত্বকের প্রাকৃতিক জেল্লা বাড়ায়
নারকেল তেলের ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সঠিক পদ্ধতিতে ম্যাসাজ করলে মুখের ফোলা ভাবও ধীরে ধীরে কমে।
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে
ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে ত্বক দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকে। রাতে ত্বকের ক্ষয় পূরণ হয়, তাই এই সময় হালকা গরম তেল ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
ত্বক পরিষ্কার ও সুস্থ রাখে
নারকেল তেলে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ত্বকে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ওপেন পোরসের সমস্যাও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
