নিউইয়র্কের নতুন ফার্স্ট লেডি রামা দুওয়াজির পোশাক বার্তা: স্টাইলের চেয়েও মূল্যবোধের জয়
শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠানে আলোচনার কেন্দ্রে কেন রামা দুওয়াজি
নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানির শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান ঘিরে আলোচনার শেষ নেই। তবে রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার স্ত্রী রামা দুওয়াজির পোশাক নির্বাচন। বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন বিশ্লেষকরা একে দেখছেন সাহসী, সচেতন এবং স্পষ্ট বার্তাবহ সিদ্ধান্ত হিসেবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি অনুষ্ঠানের জন্য রামা কোনো নতুন বা অতিমূল্যবান পোশাক কেনেননি। বরং তিনি পোশাক ভাড়া নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন, যা প্রচলিত ফার্স্ট লেডি স্টাইলের ধারণাকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে।
ভাড়ার পোশাক, কিন্তু বার্তা ছিল শক্তিশালী
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, রামা দুওয়াজির এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ নয়। এটি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলনও। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী জোহরান মামদানির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পোশাক ভাবনা যেন একই সুরে কথা বলেছে।
এই নির্বাচন দেখিয়েছে, আভিজাত্য প্রকাশের জন্য বিপুল ব্যয় জরুরি নয়। বরং সচেতনতা, মূল্যবোধ ও স্বকীয়তাই আসল পরিচয় গড়ে তোলে।
শপথ অনুষ্ঠানে রামার লুক
১ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রামা দুওয়াজিকে দেখা যায় ফরাসি ব্র্যান্ড ব্যালেনসিয়াগার একটি ফানেল নেক উল কোটে। এই কোটটি তিনি নিউইয়র্কের একটি পরিচিত রেন্টাল সার্ভিস ‘অলব্রাইট ফ্যাশন লাইব্রেরি’ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন।
এই লুকের সঙ্গে ছিল ভিনটেজ গোল্ড ইয়ার রিং এবং ‘মিস্টা’ ব্র্যান্ডের বুট। পুরো সাজটি ছিল সংযত, আধুনিক এবং স্পষ্টভাবে বার্তাবাহী।
অভিষেক অনুষ্ঠানে সাহসী ও ব্যতিক্রমী স্টাইল
পরদিন সিটি হলে আয়োজিত অভিষেক অনুষ্ঠানে রামা বেছে নেন চকলেট ব্রাউন রঙের একটি ফানেল নেক ফক্স ফার কোট। পোশাকটি তৈরি করেছেন ফিলিস্তিনি-লেবানিজ ডিজাইনার সিনথিয়া মেরহেজ।
খ্যাতনামা স্টাইলিস্ট গ্যাব্রিয়েলা কারেফা-জনসন এই লুককে বর্ণনা করেছেন “রিগ্যাল ইন দ্য পাঙ্কেস্ট ওয়ে” হিসেবে। অর্থাৎ রাজকীয়, তবে প্রচলিত ধাঁচের বাইরে গিয়ে সাহসী।
ফ্যাশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান
ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বিশ্লেষকদের মতে, রামা দুওয়াজির পোশাক ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সচেতন ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। নিউইয়র্ক ভিনটেজের প্রতিষ্ঠাতা শ্যানন হোয়ি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি ছোট স্বাধীন ব্যবসা ও পরিবেশবান্ধব টেকসই ফ্যাশনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
নতুন পোশাক কেনার বদলে ভিনটেজ ও সেকেন্ড-হ্যান্ড আইটেম বেছে নেওয়া বর্তমান ভোগবাদী সংস্কৃতির বিপরীতে এক স্পষ্ট অবস্থান।
নতুন ধারার সূচনা
জোহরান মামদানি যেহেতু সাধারণ মানুষের অধিকার, সাম্য ও ন্যায়বিচারের রাজনীতি করেন, তাই তার স্ত্রীর পোশাক ভাবনাও সেই দর্শনেরই সম্প্রসারণ। সরাসরি দামি নতুন পোশাক এড়িয়ে ভাড়া করা বা স্বাধীন ডিজাইনারের কাজ পরা একটি নৈতিক বক্তব্য বহন করে।
এই ঘটনাকে অনেকেই দেখছেন ফ্যাশন জগতে একটি নতুন ধারার সূচনা হিসেবে, যেখানে ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং সচেতন সিদ্ধান্তই হয়ে উঠছে আসল অলংকার।
