সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মুড খিটখিটে বা অলস থাকে। তবে দিনের শুরুটা যদি কিছু পুষ্টিকর ও হালকা খাবারের সঙ্গে করা হয়, তাহলে শুধু মন ভালো থাকে না, শরীরও থাকে সতেজ ও উদ্যমী। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সকালের নাশতা এমন হওয়া উচিত যা দ্রুত এনার্জি যোগায়, মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
১. তাজা ফল
সকালে একটি বা দুটি তাজা ফল খাওয়া শরীরকে দ্রুত সতেজ করে। কলা, আপেল, কমলা বা পেঁপে সকালের জন্য খুবই উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মুড ভালো রাখে এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি দেয়। এছাড়া ফলের প্রাকৃতিক চিনি ধীরে ধীরে রক্তে ছড়ায়, যা সারাদিনের ক্লান্তি দূর রাখতে সহায়ক।
২. দই বা দুধ
দই-এর প্রোবায়োটিক উপাদান হজম শক্তি বাড়ায় এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন শরীরকে শক্তি দেয়। দই-এর সঙ্গে ফল মেশালে বা দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে তা দীর্ঘসময় এনার্জি ধরে রাখে এবং মনকে স্থিতিশীল রাখে।
৩. ওটস বা চিঁড়া
হালকা হলেও পুষ্টিকর। ওটস বা চিঁড়া পেট ভরে রাখে, রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং সারাদিনের ক্লান্তি কমায়। চাইলে সঙ্গে সামান্য ফল, বাদাম বা দই মিশিয়ে খাওয়া যায়, যা সকালের এনার্জি বাড়ায়।
৪. সিদ্ধ ডিম বা অমলেট
সকালের নাশতায় ডিম প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। হালকা অমলেট বা সিদ্ধ ডিম সহজপাচ্য এবং দ্রুত প্রস্তুত করা যায়।
৫. বাদাম
কাজুবাদাম, কাঠবাদাম বা আখরোট ব্রেন-বুস্টিং ফুড হিসেবে পরিচিত। সকালের নাশতায় ৪–৫টি বাদাম খেলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, মানসিক চাপ কমে এবং সারাদিন সতেজ থাকা যায়।
৬. লেবু-মধু মিশানো গরম পানি
সকালের প্রথমেই লেবু ও মধু মিশিয়ে গরম পানি পান করলে শরীর ডিটক্স হয়, হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং সতেজতা ফিরে আসে। এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং শরীরকে সক্রিয় রাখে।
৭. সবুজ চা বা হালকা খিচুড়ি
সবুজ চা স্ট্রেস কমাতে সহায়ক এবং মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে। এছাড়া সবজি দিয়ে তৈরি হালকা খিচুড়ি শরীরকে পুষ্টি দেয় এবং পেট ভরে রাখে। এটি সকালের নাশতার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প।
সারসংক্ষেপে, দিনের শুরুটা যদি পুষ্টিকর ও হালকা খাবারের সঙ্গে করা হয়, মন ফ্রেশ থাকে, শরীর উদ্যমী থাকে এবং সারাদিন কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিন সকালের নাশতায় সহজপাচ্য, প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দেন।
