Bangla Tuktak

সাড়ে ৫ লাখ ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ অস্ট্রেলিয়ায়

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইন: কয়েক দিনেই মেটার সাড়ে ৫ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ!

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এর প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এই আইনের প্রতিপালন করতে গিয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা (Meta) মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

১. মেটার অ্যাকশন: কোন প্ল্যাটফর্মে কত অ্যাকাউন্ট বন্ধ?

মেটা সম্প্রতি একটি ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে এই বিশাল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের অ্যাপ ইনস্টাগ্রামে।

  • ইনস্টাগ্রাম: ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৯টি অ্যাকাউন্ট।

  • ফেসবুক: ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি অ্যাকাউন্ট।

  • থ্রেডস: ৩৯ হাজার ৯১৬টি অ্যাকাউন্ট।

সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্ট মেটা তাদের সিস্টেম থেকে ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করেছে।

২. বিশ্বের কঠোরতম অনলাইন আইন

অস্ট্রেলিয়ায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে এই আইনটি কার্যকর হয়। একে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অনলাইন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • অন্যান্য দেশের সঙ্গে পার্থক্য: ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ফ্লোরিডায় অভিভাবকদের অনুমতি থাকলে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুযোগ থাকে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন আইনে কোনো ধরনের ছাড় বা ‘প্যারেন্টাল কনসেন্ট’-এর সুযোগ রাখা হয়নি।

  • বিশাল জরিমানা: কোনো কোম্পানি এই আইন লঙ্ঘন করলে তাদের ৫ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

৩. মেটার আপত্তি ও ভিন্ন মত

নিষেধাজ্ঞা মেনে নিলেও এর পদ্ধতি নিয়ে মেটা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। মেটার দাবি, বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ওপর না চাপিয়ে যদি অ্যাপল বা গুগল প্লে-স্টোর পর্যায়ে করা হতো, তবে এটি বেশি কার্যকর হতো। এতে করে শিশুরা এক প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ হয়ে অন্য কোনো অনিরাপদ বা আনরেগুলেটেড অ্যাপে যাওয়ার সুযোগ পেত না।

৪. আইন নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া

এই আইনটি অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও বিশেষজ্ঞ ও তরুণ সমাজের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ:

  • মানসিক সমর্থনের অভাব: বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ এবং নিউরোডাইভারজেন্ট কিশোর-কিশোরীদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া তাদের জন্য যোগাযোগের একমাত্র নিরাপদ মাধ্যম ছিল, যা এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

  • ভিপিএন-এর ব্যবহার: প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অনেক কিশোর-কিশোরী ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে বা ভুল তথ্য দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে, যা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *