হাই হিল: ফ্যাশনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি
নারীদের ফ্যাশন ও স্টাইলের জগতে হাই হিল দীর্ঘদিন ধরেই একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। পার্টি, অফিস কিংবা উৎসবের সাজ—সব জায়গাতেই হাই হিলকে অনেকেই আত্মবিশ্বাস ও স্মার্টনেসের প্রতীক মনে করেন। হাই হিল পরলে শরীরী ভঙ্গি বদলে যায়, যা অনেক নারীর কাছে আকর্ষণীয় বলে মনে হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে শারীরিক অস্বস্তি ও মানসিক চাপের ঝুঁকি।
স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব
নিয়মিত হাই হিল পরার অভ্যাস শুধু পায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না, বরং ধীরে ধীরে পুরো শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় কী উঠে এসেছে?
ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী নিয়মিত হাই হিল ব্যবহার করেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি শারীরিক ব্যথা ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে ফ্ল্যাট জুতো ব্যবহারকারীদের তুলনায় তাদের পিঠের ব্যথা ও অস্বস্তির ঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি।
মানসিক চাপ বাড়ার কারণ কী?
দীর্ঘ সময় শরীরে ব্যথা থাকলে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এর ফলে উদ্বেগ, বিরক্তি, মেজাজ খারাপ হওয়া এমনকি মানসিক অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ শারীরিক অস্বস্তি ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যার রূপ নিতে পারে।
হিল কি মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরামদায়ক পোশাক ও জুতো আমাদের মস্তিষ্কে ইতিবাচক সংকেত পাঠায়, যা ডোপামিন নিঃসরণ বাড়াতে সহায়তা করে। এতে আত্মবিশ্বাস ও ভালো মেজাজ বজায় থাকে। কিন্তু হাই হিলের কারণে যদি ব্যথা বা চাপ তৈরি হয়, তাহলে সেই ইতিবাচক অনুভূতি নষ্ট হয়ে গিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হিল পরবেন, তবে সতর্ক থাকুন
হাই হিল একেবারে বাদ দিতে হবে—এমন নয়। কিছু সচেতনতা মেনে চললে শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সঠিক হিল নির্বাচন করুন
হিলের উচ্চতা ও আকার খুব গুরুত্বপূর্ণ। চওড়া এবং মাঝারি উচ্চতার হিল পায়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ও চাপ কমায়।
পরার সময় সীমিত রাখুন
প্রতিদিন হাই হিল ব্যবহার না করে বিশেষ অনুষ্ঠান বা প্রয়োজনীয় সময়েই পরুন। দীর্ঘ সময় ধরে হাই হিল পরে থাকা এড়িয়ে চলাই ভালো।
পায়ের যত্ন ও ব্যায়াম করুন
নিয়মিত পায়ের স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম পেশিকে নমনীয় রাখে। এতে ব্যথা ও অস্বস্তি কমে এবং পা দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে।
