সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথি কি
সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথি হলো ঘাড়ের মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়ে সৃষ্ট একটি গুরুতর স্নায়ুজনিত রোগ। স্পাইনাল কর্ড মস্তিষ্কের সাথে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানের কাজ করে, তাই এতে সমস্যা হলে হাত-পা দুর্বলতা, ভারসাম্যহীনতা, ঝিন ঝিন ভাব এবং ঘাড়ে ব্যথা দেখা দিতে পারে। জন্মগত কারণে বা ঘাড়ে আঘাত, ডিস্ক প্রলাপস, মেরুদণ্ডের ক্ষয় এবং অস্টিওফাইট থাকলেও এটি হতে পারে। রোগটি ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়, তাই সময়মতো ফিজিওথেরাপি, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার দ্বারা জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। সচেতনতা ও সঠিক জীবনযাপন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘাড়ব্যথার মারাত্মক কারণ
ঘাড়ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও কখনো কখনো এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এক ধরনের গুরুতর স্নায়ুজনিত রোগ হলো সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথি। এটি ঘটে ঘাড়ের মেরুদণ্ডের মাঝে থাকা স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়লে, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অংশের মধ্যে স্নায়ুর সংকেত প্রেরণকে বাধাগ্রস্ত করে।
স্পাইনাল কর্ড স্নায়ু সংকেতের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এ অঞ্চলে সমস্যা হলে হাত-পা, ভারসাম্য ও দৈনন্দিন কাজকর্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথির প্রধান কারণ
-
জন্মগতভাবে স্পাইনাল ক্যানাল সরু থাকা
-
ঘাড়ে আঘাত বা চোট পাওয়া
-
ডিস্ক প্রলাপস (herniated disc)
-
মেরুদণ্ডের ক্ষয়
-
হাড়ের উপর অতিরিক্ত বর্ধন বা অস্টিওফাইট
লক্ষণসমূহ
হাত-পা ও পেশির দুর্বলতা
হাত-পায়ের পেশিতে শক্তি কমে যাওয়া বা কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
ভারসাম্যহীনতা ও ঝিন ঝিন ভাব
হাঁটাচলা বা দাঁড়ানোর সময় ভারসাম্য হারানো। হাত বা পায়ে ঝিন ঝিন ভাব অনুভূত হওয়া।
ঘাড়ের ব্যথা ও অস্বস্তি
ঘাড়ে ব্যথা, শক্তি বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া।
গুরুতর লক্ষণ
-
মূত্র বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণ হারানো
-
হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া
চিকিৎসা পদ্ধতি
চিকিৎসা রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।
-
ডাক্তারের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ
-
ফিজিওথেরাপি: নিয়মিত নির্দিষ্ট ব্যায়াম ও তত্ত্বাবধান
-
অস্ত্রোপচার: স্পাইনাল কর্ডে চাপ বেশি হলে
সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথি ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
প্রতিরোধ ও সচেতনতা
-
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ফোন ব্যবহার করার সময় সঠিক পজিশন বজায় রাখা
-
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও ঘাড়ের স্ট্রেচিং
-
ঘাড় সোজা রাখা ও আঘাত থেকে রক্ষা করা
-
উঁচু বালিশ বা ভারী ওজন মাথায় বহন করা এড়িয়ে চলা
