নয়াকান্দি বেগম আছিয়া হক বিদ্যানিকেতনে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চাঁন্দেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে অবস্থিত বেগম আছিয়া হক বিদ্যানিকেতনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান, সংবর্ধনা ও নবীনবরণ আয়োজিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাবেক কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা ও নবীনবরণ এবংশিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র: আমাদের স্কুল
স্কুল হলো জ্ঞান অর্জনের পবিত্র স্থান, যেখানে একটি শিশুর ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। এটি কেবল পাঠ্যবই পড়ার জায়গা নয়, বরং শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ শেখার প্রধান কেন্দ্র। স্কুলে আমরা বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বের গুরুত্ব বুঝতে শিখি। শিক্ষকদের স্নেহভরা শাসন এবং দিকনির্দেশনা আমাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে সাহায্য করে। স্কুলের খেলার মাঠ, লাইব্রেরি এবং শ্রেণিকক্ষগুলো আমাদের শৈশবের অসংখ্য স্মৃতির সাক্ষী। একটি আদর্শ স্কুল একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও দশের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার প্রেরণা জোগায়। তাই স্কুল প্রতিটি মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়।
অনুষ্ঠানে অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি
স্কুলের এই বিশেষ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যানিকেতনের সভাপতি এবং বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির আইন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. নায়ীম আলীমুল হায়দার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মোহাম্মদ শোয়েব মাহমুদ।
বিশেষ অতিথি ও সঞ্চালনা
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:
-
অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম হোসাইনী
-
মুহাম্মদ মেহেদী হাসান (প্রভাষক, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা)
-
এস বি চেংগিস খান (বিসিবি কর্মকর্তা)
-
মোহাম্মদ এনামুল হক খান, রকিব উদ্দিন ও মিজান সরকার।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিআরটিটি-এর সিইও ওমর ফারুক।
প্রতিষ্ঠানটি কলেজে উন্নীত করার ঘোষণা
সভাপতির বক্তব্যে ড. নায়ীম আলীমুল হায়দার বলেন, প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ আজ থেকে ১৭ বছর আগে নয়াকান্দি গ্রামে এই বিদ্যাপীঠটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে এটি অত্র এলাকার শিক্ষা বিস্তারে এক আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজে রূপান্তর করা হবে।
“চাকরি নয়, ভালো মানুষ হওয়াই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ শোয়েব মাহমুদ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশে চাকরিজীবীর অভাব নেই, তবে সৎ ও ভালো মানুষের ভীষণ সংকট রয়েছে।” তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা সন্তানদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটিয়ে আদর্শ ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। প্রত্যন্ত গ্রামে এমন মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য তিনি উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান।
