Bangla Tuktak

জিভ পুড়ে গেলে দ্রুত আরাম পাওয়ার উপায়

জিভ পুড়ে গেলে দ্রুত আরাম

জিভ পুড়ে গেলে তাৎক্ষণিক আরাম পাবেন কীভাবে? জেনে নিন কার্যকর কিছু ঘরোয়া সমাধান

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে চা বা কফি খেতে যাই। আর তখনই অসাবধানতাবশত জিভ পুড়ে যাওয়ার মতো অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটে। জিভ পুড়ে গেলে কেবল জ্বালাপোড়া নয়, বরং খাবারের স্বাদ পাওয়ার ক্ষমতাও সাময়িকভাবে কমে যায়। এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এবং জিভের টিস্যু মেরামত করতে কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

জিভ পোড়ার পর প্রথম কয়েক মিনিটের করণীয়

জিভ পুড়ে যাওয়ার সাথে সাথে প্যানিক না করে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নিলে ক্ষত গভীর হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়:

১. ঠান্ডা পানির ম্যাজিক

জিভ পোড়ার ঠিক পর মুহূর্তেই মুখে ঠান্ডা পানি নিন। তবে সাথে সাথে কুলকুচি করে ফেলে দেবেন না। ২ থেকে ৩ মিনিট পানি মুখে আটকে রাখুন। এটি জিভের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় এবং ফোস্কা পড়ার ঝুঁকি কমায়।

২. বরফের ব্যবহার

যদি হাতের কাছে ঠান্ডা পানি না থাকে, তবে বরফের ছোট টুকরো পোড়া জায়গায় কিছুক্ষণ চেপে ধরুন বা লজেন্সের মতো চুষুন। বরফ ওই অংশটিকে সাময়িকভাবে অসাড় করে দেয়, ফলে ব্যথার অনুভূতি দ্রুত কমে যায়।

দ্রুত নিরাময়ে ঘরোয়া উপশমকারী উপাদান

রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু জিনিস ব্যবহার করে আপনি জিভের ক্ষত সারাতে পারেন:

মধু ও চিনির প্রলেপ

মধু একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক এবং নিরাময়কারী উপাদান। জিভের পোড়া অংশে এক চামচ মধু লাগিয়ে রাখুন। মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। হাতের কাছে মধু না থাকলে সামান্য চিনি জিহ্বায় দিয়ে রাখুন; এটিও জ্বালা কমাতে বেশ কার্যকর।

ঠান্ডা দুধ ও দইয়ের ব্যবহার

দুগ্ধজাত খাবার পোড়া জিভের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। এক চুমুক ঠান্ডা দুধ মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন অথবা এক চামচ ঠান্ডা দই খান। দইয়ের শীতলতা এবং টেক্সচার জিভের উপর একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে, যা জ্বালাপোড়া থেকে দীর্ঘক্ষণ আরাম দেয়।

প্রাকৃতিক উপশমকারী: লালা

শুনতে অবাক লাগলেও আমাদের মুখের লালা বা থুতু ক্ষত নিরাময়ে দারুণ কাজ করে। পোড়া জায়গাটি মুখের উপরের তালুর সাথে আলতো করে লাগিয়ে রাখুন। এতে লালার সংস্পর্শে ক্ষতস্থানটি আর্দ্র থাকে এবং ব্যথা দ্রুত কমে আসে।

দ্রুত সুস্থতার জন্য পরবর্তী যত্ন ও সতর্কতা

জিভ পোড়ার পরের ২-৩ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে নিচের নিয়মগুলো মেনে চললে কোনো ইনফেকশন হবে না:

লবণ-পানির কুলকুচি

হালকা কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। লবণ পানি মুখের ভেতর থেকে ক্ষতিকারক জীবাণু দূর করে এবং ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। তবে পানি যেন বেশি গরম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

সঠিক খাদ্য নির্বাচন

যতদিন না জিভ সম্পূর্ণ সুস্থ হচ্ছে, ততদিন নরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দই, আইসক্রিম, ঠান্ডা স্মুদি বা সুপ আপনার জন্য আরামদায়ক হবে।

যা অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন

সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে এমন কিছু খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি:

  • অতিরিক্ত গরম ও ঝাল: গরম খাবার পুনরায় ক্ষতস্থানে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।

  • টক বা সাইট্রাস জাতীয় ফল: লেবু, কমলা বা কামরাঙার মতো টক খাবার পোড়া জায়গায় দিলে তীব্র ব্যথা হতে পারে।

  • শক্ত খাবার: চিপস বা টোস্ট বিস্কুটের মতো শক্ত খাবার জিভে ঘষা লেগে ক্ষত বাড়িয়ে দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

সাধারণত ঘরোয়া উপায়েই জিভ পোড়া সেরে যায়। তবে যদি দেখেন ২-৩ দিন পরেও ব্যথা কমছে না, পুজ দেখা দিচ্ছে বা জ্বর আসছে, তবে দেরি না করে একজন ডেন্টিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *