Bangla Tuktak

মস্তিষ্কের ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ৫টি জাদুকরী খাবার

মস্তিষ্কের ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ানো

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার উপায়: স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও ডিমেনশিয়া রোধে কার্যকরী খাবার

অনেক সময় আমরা খুব পরিচিত কোনো নাম বা প্রয়োজনীয় কাজ হুট করে ভুলে যাই। সাধারণ এই ভুলে যাওয়া মাঝেমধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রম হিসেবে পরিচিত। আমাদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং পুষ্টিহীন খাবার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো মস্তিষ্কেরও বিশেষ পুষ্টির প্রয়োজন। সঠিক খাদ্যভ্যাস এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রাই পারে আপনার মস্তিষ্ককে সচল ও তীক্ষ্ণ রাখতে।

মস্তিষ্কের সুপারফুড: যা খাবেন আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়াতে

আমাদের হাতের কাছেই এমন কিছু খাবার রয়েছে যা মস্তিষ্কের উর্বরতা বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে। নিচে এ ধরনের কিছু সুপারফুড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. পুষ্টিগুণে ভরপুর সবুজ শাকসবজি

সবুজ শাকসবজি, বিশেষ করে পালং শাক মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অতুলনীয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি এবং বি-৯ (ফোলেট) থাকে। এই উপাদানগুলো মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশন কাটাতে দারুণ কার্যকর। নিয়মিত শাক খেলে মস্তিষ্কের কোষগুলো পুনরুজ্জীবিত হয় এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে।

২. বেরি জাতীয় ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

চেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি বা ব্ল্যাকবেরি কেবল সুস্বাদুই নয়, এগুলো মস্তিষ্কের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এই ফলগুলোতে উচ্চমাত্রায় ‘ফ্ল্যাভানয়েড’ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং বয়সজনিত স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে।

৩. বাদাম ও ওমেগা-৩ এর উৎস

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বাদামের কোনো বিকল্প নেই। বাদামে ভিটামিন বি, ভিটামিন ই এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। চিকিৎসকদের মতে, যেকোনো বাদাম সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে তা শরীরের জন্য বেশি উপকারী হয়। নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

৪. ভেষজ মশলার জাদুকরী গুণ

অনেকেই মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলেন, কিন্তু কিছু প্রাকৃতিক মশলা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। যেমন, দারচিনিতে থাকা পলিফেনল মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে সুরক্ষিত রাখে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা দূর করে। এছাড়া হলুদে থাকা কারকিউমিন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৫. বীজ জাতীয় খাবারের কার্যকারিতা

কুমড়োর বীজ বা সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই এবং জিঙ্ক। এই উপাদানগুলো মস্তিষ্কের পুষ্টির জোগান দেয় এবং মনোযোগ বাড়ানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শিশুদের টিফিনে বা বিকেলের নাস্তায় এই বীজগুলো রাখা অত্যন্ত জরুরি।

মস্তিষ্ককে সচল রাখতে জীবনযাত্রায় আনুন পরিবর্তন

কেবল খাবার খেলেই হবে না, মস্তিষ্কের কোষগুলোকে কার্যকর রাখতে নিয়মিত কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন:

পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম

মস্তিষ্কের বিশ্রাম এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক তার অপ্রয়োজনীয় তথ্য পরিষ্কার করে এবং স্মৃতি গুছিয়ে রাখে। পাশাপাশি প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলা মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়।

নতুন কিছু শেখার আগ্রহ

মস্তিষ্ককে যত বেশি খাটাবেন, এটি তত বেশি তীক্ষ্ণ হবে। নতুন কোনো ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা পাজল মেলানোর মতো কাজগুলো মস্তিষ্কের কোষের সংযোগ বৃদ্ধি করে। এটি মস্তিষ্ককে বার্ধক্যজনিত সমস্যা থেকে দূরে রাখে।

মানসিক চাপ মুক্ত থাকা

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই নিজেকে সময় দিন, প্রিয়জনদের সাথে কথা বলুন এবং আড্ডা দিন। সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকলে মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ দ্রুত ঘটে।

উপসংহার মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এর সঠিক যত্ন না নিলে খুব অল্প বয়সেই আপনি স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই আজ থেকেই আপনার খাদ্য তালিকায় সবুজ শাকসবজি, বাদাম এবং ফলমূল যোগ করুন। মনে রাখবেন, একটি সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়ার জন্য সুষম খাবার এবং সুস্থ জীবনধারার কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *