বাইশ গজে রাজনীতির ছায়া: মোস্তাফিজ কে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান ত্রিমুখী উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনা এখন এক উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আর কেউ নন, বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। আইপিএল থেকে তাঁর আকস্মিক প্রস্থানকে কেন্দ্র করে এমন এক কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটীয় সম্পর্কে বড় ধরণের ফাটল ধরিয়েছে।
মোস্তাফিজ ইস্যু ও আইসিসির কঠোর অবস্থান
সব বিতর্কের মূলে রয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি বাতিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ তাদের ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ম্যাচ না খেলার ইঙ্গিত দেয়। তবে আইসিসি নমনীয় হওয়ার বদলে কঠোর অবস্থান নেয় এবং বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। এই ঘটনাটি বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানের সংহতি: ক্রিকেটে নতুন মেরুকরণ
বাংলাদেশের প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদে পাকিস্তান এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা আসন্ন বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তানের এই অবস্থানকে অনেকেই ক্রিকেটের নতুন মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাজনীতির মারপ্যাঁচে খেলাধুলা গৌণ হয়ে পড়েছে।
শশী থারুরের স্পষ্টভাষণ: “এটি লজ্জাজনক”
ভারতের প্রভাবশালী নেতা শশী থারুর এই পুরো পরিস্থিতির জন্য রাজনীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি মোস্তাফিজের আইপিএল চুক্তি বাতিলকে একটি ‘ভুল পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, খেলাধুলাকে এভাবে রাজনীতির সাথে মিশিয়ে ফেলাটা চরম লজ্জার। তিনি মনে করেন, মোস্তাফিজের মতো একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সাথে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।
তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াকে তিনি কিছুটা ‘অতিরিক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। থারুরের মতে:
“বাংলাদেশিদের প্রতিক্রিয়া কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হলেও, এটি মূলত তাঁদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।”
সংকট উত্তরণের পথ কী?
শশী থারুর মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ক্রিকেট হলো মানুষে-মানুষে মেলবন্ধনের একটি মাধ্যম। তিনি আইসিসিকে আহ্বান জানিয়েছেন একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা নিরসন করতে পারে।
শেষ কথা
মোস্তাফিজকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিবাদ এখন আর কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি দেশগুলোর মধ্যে মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেট এখন তাকিয়ে আছে আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—সমঝোতা নাকি আরও বড় কোনো বিচ্ছেদ, উত্তর মিলবে হয়তো খুব শীঘ্রই।
