Bangla Tuktak

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোপের মুখে শিমলা

তোপের মুখে শিমলা

রাজনীতির ভোলবদল: নৌকা থেকে ধানের শীষে ‘ম্যাডাম ফুলি’ খ্যাত শিমলা, নেটদুনিয়ায় নিন্দার ঝড়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন দেশজুড়ে বইছে টানটান উত্তেজনা। প্রচারণার শেষ মুহূর্তের ডামাডোলে রাজনীতির মাঠ যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা করলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সামসুন্নাহার শিমলা। এক সময় আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপত্র কেনা এই অভিনেত্রী এবার রাজপথে নামলেন বিএনপির হয়ে ভোট চাইতে। তাঁর এই আকস্মিক দলবদল এবং ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নামার ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মনোনয়ন না পেয়েও ছিলেন নৌকার অনুসারী

স্মরণ করা যেতে পারে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন শিমলা। সে সময় তিনি কেবল মনোনয়নপত্রই কেনেননি, বরং নিজেকে ‘আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নের কথাও শুনিয়েছিলেন।

শিমলা তখন বলেছিলেন, “আমি স্বপ্নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি, তিনি আমাকে কিছু একটা দিচ্ছেন। আমার মনে হয় সেই স্বপ্নটাই বাস্তব হতে যাচ্ছে এবং তিনি আমাকে মনোনয়ন দেবেন।” মনোনয়ন না পেলেও সেই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে তাঁকে প্রকাশ্য প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল।

নাটকীয় পরিবর্তন: এবার ধানের শীষের মিছিলে

আগের নির্বাচনের সেই ‘আদর্শিক’ অবস্থান ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। প্রচারণার শেষ দিনে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী ময়দানে সবাইকে অবাক করে দিয়ে হাজির হন শিমলা। তবে এবার আর নৌকার স্লোগান নয়, তাঁর কণ্ঠে শোনা গেল ধানের শীষের জয়ধ্বনি।

গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গায়ক মনির খান, রবি চৌধুরী, অভিনেত্রী রীনা খান এবং অভিনেতা শাহেদ শরীফ খানদের সঙ্গে ধানের শীষের লিফলেট বিলি করতে দেখা যায় তাঁকে। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে শিমলা কিছুটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন,

“আমি শিমলা, ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছি। আমাকে নিয়ে দয়া করে নয়-ছয় কথা বলবেন না। আমার অনেক কিছু বলার আছে, তবে তা এখন নয়, ১২ তারিখের পর বলব।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোপের মুখে শিমলা

শিমলার এই আকস্মিক ভোলবদল নিয়ে নেটদুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়। ফেসবুক ও ইউটিউবের বিভিন্ন কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীরা অভিনেত্রীর এই দ্বিমুখী অবস্থানকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

  • ট্রল ও মিম: অনেক নেটিজেন তাঁর অভিনীত ‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্য ব্যবহার করে রাজনৈতিক ট্রল বানাচ্ছেন।

  • আদর্শের অভাব: সচেতন নাগরিকদের মতে, শিল্পীদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ থাকা উচিত। রাতারাতি দলবদল শিল্পীদের ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে হালকা করে দেয়।

নিরুত্তর অভিনেত্রী

হঠাৎ কেন আদর্শ পরিবর্তন করে অন্য দলের হয়ে মাঠে নামলেন—এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শিমলার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বর্তমানে তিনি সব ধরণের বিতর্ক এড়িয়ে চলছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন বড় ধরণের ভোলবদল ভোটারদের মনে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, সেটি এখন দেখার বিষয়। তবে শিমলা যে ১২ তারিখের পর মুখ খোলার কথা বলেছেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ ও তাঁর ভক্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *