শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিম পাতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
শীতের সময়ে ঠান্ডা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্ত রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও প্রাকৃতিক উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। সেই তালিকায় নিম পাতা একটি পরিচিত ও কার্যকর ভেষজ উপাদান।
নিমের ঔষধি গুণ বহুদিন ধরেই আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক গবেষণাতেও এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যের কথা উঠে এসেছে।
নিম পাতার গুণাগুণ কীভাবে শরীরকে সুরক্ষা দেয়
নিম পাতা একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা উপাদান শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে
নিম পাতায় থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য শরীরকে নানা ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। নিয়মিত গ্রহণ করলে ইমিউন সিস্টেম আরও সক্রিয় থাকে।
হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়ক
নিম পাতা হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। পেট পরিষ্কার থাকলে তার প্রভাব ত্বকেও পড়ে।
ত্বক ও রক্ত সঞ্চালনে উপকার
নিম শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য দূর করতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়। এর ফলে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হয়।
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে নিম পাতার ভূমিকা
নিম পাতা ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হিসেবে পরিচিত। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিম পাতার নির্যাস রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে খেলে উপকার পাওয়া যায়
ভালো ফল পেতে অনেকেই সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস পান করেন। আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে কচি নিম পাতা বেটে গ্রহণ করার চল রয়েছে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কীভাবে খাবেন নিম পাতা
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, নিম তিতা হলেও এর উপকারিতা অনেক। যারা সরাসরি রস খেতে পারেন না, তারা বিকল্প পদ্ধতিও বেছে নিতে পারেন।
রস বা ক্যাপসুল
নিম পাতার রস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। চাইলে বাজারে পাওয়া নিম ক্যাপসুলও ব্যবহার করা যেতে পারে।
সংরক্ষণ করে ব্যবহার করার সহজ উপায়
প্রতিদিন কাঁচা নিম পাতা পাওয়া সম্ভব না হলে সংরক্ষণ একটি ভালো সমাধান।
যেভাবে সংরক্ষণ করবেন:
পাতা ডাল থেকে আলাদা করে পরিষ্কার করে নিন। এরপর সিল-পাটায় বা ব্লেন্ডারে বেটে মিহি পেস্ট তৈরি করুন। ছোট বড়ি আকারে গড়ে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে কাঁচের বোতলে রেখে দিন। এভাবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব।
নিয়মিত ব্যবহারে কী উপকার পাওয়া যায়
নিয়মিত ও পরিমিতভাবে নিম পাতার রস গ্রহণ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে যেকোনো ভেষজ উপাদানের মতোই, অতিরিক্ত ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রাখা জরুরি।
