দেশের চিকিৎসা খাতে বড় অর্জন: সরকারি চাকরিতে যুক্ত হলেন ৩ হাজার ২৬৩ জন চিকিৎসক
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএসের মাধ্যমে নবনিযুক্ত ৩ হাজার ২৬৩ জন চিকিৎসক আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কর্মজীবন শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের দীর্ঘদিনের সংকট অনেকাংশেই কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান
সম্প্রতি রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চিকিৎসকেরা যোগদান করেন। স্বাস্থ্য ক্যাডারের এই বিশাল নিয়োগে দুই ধরনের বিশেষজ্ঞ পদ রয়েছে:
-
জেনারেল সার্জন: ২,৯৮৪ জন চিকিৎসক সহকারী সার্জন হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
-
ডেন্টাল সার্জন: ২৭৯ জন চিকিৎসক সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে নিযুক্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি বড় সাফল্য।
কর্মস্থল নির্ধারণে থাকবে নতুন চমক
নতুন চিকিৎসকদের কর্মস্থল নির্ধারণ বা পদায়নের ক্ষেত্রে সরকার এবার চিরাচরিত নিয়মের বাইরে গিয়ে মেধা ও মানবিকতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, চিকিৎসকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করেই তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
পদায়নের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে: ১. স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল: যেসব চিকিৎসক বিবাহিত এবং তাদের জীবনসঙ্গীও চাকুরিজীবী, তাদের একই এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে সবার আগে বিবেচনা করা হবে। ২. শারীরিক অসুস্থতা: যদি কোনো চিকিৎসকের জটিল শারীরিক সমস্যা থাকে, তবে তাদের পছন্দের জায়গাটি বিশেষ বিবেচনায় রাখা হবে।
ডা. সায়েদুর রহমানের মতে, এই মেধাভিত্তিক ও মানবিক পদায়ন প্রক্রিয়ার ফলে চিকিৎসকদের কাজের স্পৃহা বাড়বে।
তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বিশাল সংখ্যক মেধাবী তরুণ যখন দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে কাজ শুরু করবেন, তখন সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার মান অনেক বেড়ে যাবে। যেহেতু এই চিকিৎসকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং ন্যায্য, তাই তারা কর্মক্ষেত্রেও সেই সততার পরিচয় দেবেন বলে সরকার আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম নিজে উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নতুন চিকিৎসকদের স্বাগত জানান।
উপসংহার
৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে এই নতুন রক্তের সংযুক্তি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে। মেধা ও মমত্ববোধের সমন্বয়ে এই চিকিৎসকেরা দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবেন—এমনটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

