Bangla Tuktak

সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা, দুই নৌযানের রুট পারমিট বাতিল

সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা,

সদরঘাট লঞ্চ দুর্ঘটনা: সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ

রাজধানীর সদরঘাটে ঘটে যাওয়া একটি নৌ দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকা থেকে লঞ্চে ওঠার সময় হঠাৎ আরেকটি লঞ্চ তাদের ওপর চাপা দেয়।

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সম্প্রতি সংঘটিত লঞ্চ দুর্ঘটনার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করতে, সংশ্লিষ্ট দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে গঠন করা হয়েছে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি, যা দ্রুত ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে এবং দোষীদের শনাক্ত করবে।

নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সরাসরি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, লঞ্চের ক্রু এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পদক্ষেপ নিয়েছে। যাদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপথে কোনো ধরনের অবহেলা বা দুর্ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকেও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

তদন্ত কমিটির গঠন

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং বিআইডব্লিউটিএ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিগুলিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত সচিব আবুল ইসলাম
  • বিআইডব্লিউটিএর কমিটির প্রধান করা হয়েছে পরিচালক (প্রশাসন) সাইফুল ইসলাম
  • কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ, নৌপরিবহণ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং নৌ পুলিশের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নৌপথে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হবে। যাত্রীদের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করবে।

এছাড়া, স্থানীয় লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং ক্রুদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে দেশের নৌ পরিবহন আরও নিরাপদ এবং দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *