শোকের সংবাদ: নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমনের প্রয়াণ
শামস সুমনের মৃত্যু সংবাদ
নব্বই দশকের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিনোদন জগতে শোকের মাতম শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমে বন্ধু, সহকর্মী ও ভক্তরা আবেগঘন স্মৃতিচারণায় ভরে ওঠে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
জানাজা ও পারিবারিক কার্যক্রম
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শামস সুমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শিল্পী, নির্মাতা এবং কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন। শামস সুমনের পরিবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিবার দেশে আসেননি, তার মরদেহ সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
মৃত্যুর আগে সময় ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি
অভিনেতা আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে ভিডিওকলে শামস সুমনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিকেল ৫টার পরপরই তাকে রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল পৌঁছলেও শামস সচেতন ছিলেন, নিজের পায়ে চলাফেরা করছিলেন এবং আশেপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
আকস্মিক ঘটনা
হাসপাতালের এমআরআই শেষে ড্রেসিংরুমে পোশাক পরিবর্তনের সময় আচমকা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন শামস সুমন। উপস্থিত সহকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করতে চেষ্টা করেন। তিনি কাতর স্বরে ‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলার পর নীরব হয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে প্রাণপণ চেষ্টা করেন, কিন্তু তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে রিপোর্টে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
শামস সুমনের জীবন ও কর্মজীবন
শামস সুমন নব্বই দশকে টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। মঞ্চ, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমে তার অবদান রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’ দিয়ে তিনি সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু করেন। এছাড়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শেষ সময়
জীবনের শেষ সময়ে শামস সুমনের জন্য পরিস্থিতি সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকা, শারীরিক জটিলতা এবং ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা তাকে ঘিরে রেখেছিল। স্ত্রী ও সন্তান দেশে না থাকায় তার পাশে ছিলেন না। তবু শামসের ইচ্ছা ছিল আবার কাজে ফিরতে, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে এবং দর্শকদের সাথে সংযোগ রাখতে।
শোক ও সমালোচনা
শোকাহত সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে শামস সুমনের প্রতি শ্রদ্ধা ও আবেগ জানিয়েছেন। বিশেষ করে তার সহকর্মী মাসুদ রানা মিঠু এবং আবুল কালাম আজাদ শামসের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের কথা স্মরণ করেছেন। শোকের এই মুহূর্তে পুরো বিনোদন জগতের মানুষ একযোগে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
