হৃতিক রোশন ও সুজান খানের ডিভোর্স: বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিচ্ছেদ
বলিউডে তারকাদের বিচ্ছেদ মানেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো হৃতিক রোশন ও সুজান খানের বিচ্ছেদ। তাদের ডিভোর্সের নিষ্পত্তিতে যে অঙ্কের অর্থ জড়িত ছিল, তা বলিউডের ইতিহাসে একটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
পরিচয় ও প্রেমের শুরু
হৃতিক রোশন হলেন বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা রাকেশ রোশনের ছেলে, আর সুজান খান অভিনেতা সঞ্জয় খানের কন্যা। তারা শৈশব থেকেই বন্ধু ছিলেন।
২০০০ সালে হৃতিকের ব্লকবাস্টার সিনেমা “কাহো না পেয়ার হ্যায়” দিয়ে তাদের জুটি বিনোদন জগতে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয়। তবে সিনেমার আগে থেকেই তাদের সম্পর্ক প্রেমের পর্যায়ে ছিল। চার বছরের সম্পর্কের পর ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি ছেলে জন্ম নেয়— হৃহণ (২০০৬) এবং হৃদান (২০০৯)।
বিচ্ছেদের সূচনা
২০১০ সালে হৃতিকের সিনেমা “কাইটস”-এর শুটিং চলাকালীন তাদের মধ্যে ফাটল ধরার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই সমস্যা চার বছর ধরে চলার পর, অবশেষে ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন। এইভাবে শেষ হয় তাদের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবন।
বিচ্ছেদের পরও তারা একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। দুই সন্তানের যৌথ অভিভাবকত্ব পালন করছেন এবং প্রায়ই একসাথে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়।
বলিউডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডিভোর্স
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদ নিষ্পত্তিতে সুজান খান পেয়েছেন প্রায় ৩৮০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫২৭ কোটি টাকা।
নগদ অর্থ, সম্পত্তি, বিনিয়োগ বা অন্য মাধ্যমে এই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবুও এটি বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডিভোর্স হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
বর্তমান জীবন ও ক্যারিয়ার
বর্তমানে হৃতিক রোশন প্রেম করছেন অভিনেত্রী সাবা আজাদের সঙ্গে। আর সুজান খান সম্পর্কে আছেন আর্সলান গোনির সঙ্গে।
হৃতিককে শিগগিরই দেখা যাবে নতুন সিনেমা “ওয়ার ২”-এ, যা মুক্তি পাবে আগামী ১৪ আগস্ট।
উপসংহার
হৃতিক রোশন ও সুজান খানের বিচ্ছেদ শুধু ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় নয়, বরং বলিউডে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের দিক থেকেও তা নজরকাড়া। ১৪ বছরের সম্পর্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সমাপ্তি এবং দুই সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছে, যে বিচ্ছেদ মানেই শত্রুতা নয়।
