মুম্বাইয়ের ওরলিতে শ্রেয়া ঘোষালের রাজকীয় আবাস: ৬০ কোটির বিনিয়োগে নতুন চমক
ভারতের সংগীত জগতের মেলোডি কুইন শ্রেয়া ঘোষাল বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এবার কোনো নতুন গানের জন্য নয়, বরং আবাসন খাতে তার বিশাল এক বিনিয়োগের খবর বিনোদন দুনিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা ওরলিতে (Worli) প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন এই সুরসম্রাজ্ঞী।
আরব সাগরের তীরে শ্রেয়ার নতুন ঠিকানা
মুম্বাইয়ের রিয়েল এস্টেট খবরের সূত্রমতে, শ্রেয়া ঘোষাল ওরলির একটি হাই-প্রোফাইল আবাসন প্রকল্পে এই সম্পত্তিটি ক্রয় করেছেন। দুটি ফ্ল্যাট মিলিয়ে যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। শুধু ফ্ল্যাটের দামই নয়, এর সাথে স্ট্যাম্প ডিউটি এবং রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ আরও কয়েক কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন তিনি। ওরলি এলাকাটি মূলত আরব সাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় এখান থেকে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করা যায়।
বিলাসিতা ও আভিজাত্যের সংমিশ্রণ
বর্তমানে ওরলি এলাকাটি বলিউড সেলেব্রিটি ও নামী ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। বিরাট কোহলি, অক্ষয় কুমার এবং অভিষেক বচ্চনের মতো তারকাদের প্রতিবেশী হিসেবে এখন থাকছেন শ্রেয়া। তার এই নতুন অ্যাপার্টমেন্টে রয়েছে বিশ্বমানের সব সুযোগ-সুবিধা:
-
সমুদ্রমুখী ভিউ: প্রতিটি ঘরের প্রাইভেট ডেক থেকে দিগন্তজোড়া আরব সাগর দেখা যায়।
-
ফিটনেস সেন্টার: আধুনিক জিম এবং যোগব্যায়াম করার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
-
নিরাপত্তা: ২৪ ঘণ্টা কঠোর নিরাপত্তা ও স্মার্ট নজরদারি সিস্টেম।
-
স্মার্ট পার্কিং: সেন্সর-ভিত্তিক অটোমেটেড পার্কিং সুবিধা।
সাফল্যের দুই দশক ও আর্থিক বিচক্ষণতা
২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে শ্রেয়া ঘোষাল আজ ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া সংগীতশিল্পী। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছেন। স্টেজ শো, রিয়েল এস্টেট এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে তার আয় এখন আকাশচুম্বী। আবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুম্বাইয়ের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্যের কথা মাথায় রেখে শ্রেয়া এই বিনিয়োগের মাধ্যমে অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।
পরিবার ও নতুন জীবনের পরিকল্পনা
ব্যক্তিগত জীবনে শ্রেয়া ঘোষাল ২০১৫ সালে শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন এবং ২০২১ সালে তাদের পুত্র সন্তান দেবিয়ান পৃথিবীতে আসে। ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, ক্রমবর্ধমান পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্য এবং আধুনিক জীবনযাত্রার কথা মাথায় রেখেই তিনি এই বড় আয়তনের অ্যাপার্টমেন্ট দুটি বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকলেও খুব শীঘ্রই সপরিবারে নতুন ঠিকানায় উঠবেন তিনি।
উপসংহার
বলিউডে সাধারণত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অভিনেতাদের নাম আগে আসত। কিন্তু শ্রেয়া ঘোষালের এই ৬০ কোটির বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, বর্তমানে শীর্ষ সংগীতশিল্পীরাও সফলতার তুঙ্গে অবস্থান করছেন। তার এই অর্জন তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। সংগীতের সুরের মতোই তার ব্যক্তিগত জীবনের এই নতুন যাত্রা আরও সুখময় হোক—ভক্তদের প্রত্যাশা ঠিক এমনটাই।

